ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ভূখণ্ড দখল করেছে নেপাল! এমনই বিস্ফোরক দাবিকরলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন শাহের এই দাবি ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়েছে। নেপালের সংসদে তাঁর প্রথম ভাষণে শাহ বলেন, ‘আপনারা হয়তো বিস্মিত হতে পারেন, কিন্তু আমিও সম্প্রতি—প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জানতে পেরেছি, শুধু ভারত নয়, নেপালও অনেক জায়গায় ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। উভয় দেশের উচিত প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখে এই সমস্যার সমাধান করা।’
ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চল বিশেষ করে পশ্চিমের কালাপানি-লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ অঞ্চল এবং দক্ষিণের সুস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই আবহে বলেন শাহের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নেপালিদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলের সাংসদরা তাঁর মন্তব্য মুছে ফেলার দাবি জানিয়েছেন। নেপালি কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে যেভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন, নেপাল সে ভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেনি। বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করার দাবি করেছেন তাঁরা। ভারতে নিযুক্ত নেপালের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নীলাম্বর আচার্য এ বিষয়ে বলেন, নেপাল ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করেছে, ভারত নিজে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযোগ করেনি। ৯৭ শতাংশ সীমান্ত সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, নেপালের বিদেশ মন্ত্রণাক বলেন শাহের মন্তব্যের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত বিষয়টি মূলত দশগজা এলাকায় অবৈধ দখল এবং সীমান্ত দখল সম্পর্কিত। নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু নেপাল ও ভারত সীমান্ত নির্ধারণের সময় নদী-সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট সীমানা নীতি গ্রহণ করেছিল, তাই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যেখানে এক দেশের নাগরিকরা অন্য দেশের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত জমিতে চাষাবাদ বা বসবাস করছেন।’