ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়ারে এক পিএইচডি ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। জানা গিয়েছে ঐ তরুনী নিজের বাড়ির একটি ঘরেই আত্মঘাতী হয়েছেন। পরে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করলে উঠে আসে তরুণীর উপর হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা। পুলিশ জানিয়েছে যোগেশ রাওয়াত নামের এক যুবক মাস খানেক আগে তাঁকে মাদক খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করেছে এবং সেই ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বারংবার যৌন নির্যাতন করে গেছে। এতেই থেমে থাকে নি অভিযুক্ত। নির্যাতিতা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরলে তাঁকে লাগাতার অপমান করেছে এবং নিজের পরিবারের লোকজনদের দিয়েও অপমান করিয়েছে। তদন্তের পর অভিযুক্ত যোগেশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশি সূত্র অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়ারে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছিলেন তরুণী। সেখানে তাঁর এক বন্ধুর মাধ্যমে যোগেশের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। সম্পর্কে ঐ বন্ধুর দাদা হয় যোগেশ। সেই সূত্রেই দুইজনে ঘনিষ্ট হতে শুরু করে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায় চলতি বছরে ১৩ মার্চ এক হোটেলে তরুনীকে ডেকে পাঠায় যোগেশ। সেখানে পানীয়র সঙ্গে মাদক মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করে তাঁকে ধর্ষণ করে এবং সেই মুহুর্তের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখে। পুলিশ আরও জানায় নির্যাতনের মাঝেই জ্ঞান ফিরে আসে তরুণীর। তখন তাঁকে বিয়ে করার আশ্বাসও দেয় যোগেশ।
এখনেই থেমে থাকেনি অভিযুক্ত। নির্যাতনের মুহুর্তের ভিভিও ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ঠিক দুই দিন পর আবার হোটেলে ডেকে পাঠানো হয় নির্যাতিতাকে। সেখানে আবারও তাঁকে নিগ্রহ করে যোগেশ। এরপর সেখান থেকে নিজের বাড়ি ফিরে যায় তরুণী। পরে নির্যাতিতা জানতে পারে সে অন্তঃসত্ত্বা। সেই কথা যোগেশকে জানালে বাজে ভাষায় অপমান করে এবং নির্যাতনের মুহুর্তের ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। এখানে থেমে না থেকে নিজের পরিবারের একধিক সদস্যদের দিয়েও বারবার অপমান করায় নির্যাতিতাকে। যাঁদের মধ্যে তরুণীর বান্ধবীও ছিল বলে জানায় পুলিশ।
দিনের পর দিন এই অপমান এবং নিগ্রহ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে পুলিশের দারস্থ হয় নির্যাতিতা। সমস্ত ঘটনা শোনার পর অভিযুক্ত যোগেশ রাওয়াতকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যেই নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হন নির্যাতিতা তরুণী। ময়নাতদন্তের পর আত্মহত্যা বলেই নিশ্চিত করে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মুল অভিযুক্ত যোগেশ রাওয়াতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত আছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।