ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুনেতে ভয়াবহ বিষমদ কাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এখনও একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে অবৈধ মদের কারবার রুখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পুনে শহর এবং সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় স্থানীয়ভাবে বিক্রি হওয়া সস্তার মদ পান করার পর একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই তীব্র বমি, মাথা ঘোরা, পেটের যন্ত্রণা, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যাওয়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত তাঁদের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কয়েকজনের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও একের পর এক মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
তদন্তকারীদের অনুমান, মদের সঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিক বা মিথানল মেশানো হয়েছিল। এই ধরনের রাসায়নিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অল্প পরিমাণে শরীরে প্রবেশ করলেও তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল মদে মিথানলের উপস্থিতি থাকলে তা স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি এবং চোখের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন বা মৃত্যুর মুখে পড়তে পারেন।
ঘটনার পরই পুলিশ ও আবগারি দপ্তর যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সন্দেহভাজন মদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরেই একটি সংগঠিত চক্র অবৈধভাবে মদ তৈরি ও সরবরাহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। সেই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং গোটা চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য অবৈধ মদের ব্যবসার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ মদের ব্যবসা চললেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। অনেকেই দাবি করেছেন, বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সেই অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। ফলে অবশেষে এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে হল সাধারণ মানুষকে।