ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখতে বিশ্বের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন নেতার মধ্যে পৃথকভাবে হওয়া কথোপকথনে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট সমাধান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রথমে ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে ফোনালাপে প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি এই পথের ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থায় প্রণালীতে যেকোনও বিঘ্ন ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দুই নেতা এই জলপথ খোলা রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন।
অন্যদিকে, মোদী ও ম্যাক্রোঁর মধ্যেও আলাদা করে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই নেতা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যাতে বাধাহীনভাবে চলতে পারে, সেই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে সমন্বয় বাড়িয়ে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তাঁরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েনের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সামরিক তৎপরতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা বাড়ছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলিও পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে নজর রাখছে। বিশেষ করে ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ ভবিষ্যতে প্রণালীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক উদ্যোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যদিও সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রে তারা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে, তবুও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে।