ওঙ্কার ডেস্ক: মুম্বইয়ের ভেন্ডি বাজার এলাকার এক বহুতলে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতরা হলেন আবদুল্লাহ দোদাকিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন দোদাকিয়া এবং তাঁদের দুই কন্যা। প্রথমে অনুমান করা হয়েছিল, রাতে খাওয়া তরমুজ থেকেই বিষক্রিয়ার জেরে এই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে আসছে আরও জটিল এবং উদ্বেগজনক তথ্য। মনে করা হচ্ছে বিষক্রিয়ার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন এক পরিবারের চারজন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে পরিবারের সদস্যরা এক আত্মীয়ের বাড়িতে রাতের খাবার খান। খাবারের তালিকায় ছিল বিরিয়ানি, পোলাও-সহ অন্যান্য পদ। পরে বাড়ি ফিরে রাতের কিছু সময় পরে তাঁরা তরমুজ খান। এরপর গভীর রাতে একে একে চারজনের শরীরে বমি, পেটব্যথা, ডায়রিয়া এবং তীব্র শারীরিক অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অল্প সময়ের ব্যবধানে চারজনেরই মৃত্যু হয়।
প্রাথমিক তদন্তে তরমুজে অ্যালার্জির সম্ভাবনাই সামনে এলেও পরে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই তরমুজে কৃত্রিম রং, রাসায়নিক বা বাহ্যিক কোনও ক্ষতিকর পদার্থের স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এর ফলে শুধুমাত্র ফলটিকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তদন্তকারীরা এখন সম্ভাব্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, খাদ্যে বিষাক্ত উপাদান মেশানো অথবা ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের মতো একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন।
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এত দ্রুত চারজন সুস্থ মানুষের শারীরিক অবনতি এবং মৃত্যু সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিরল। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।
এই ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু মানুষ তরমুজ কেনা এবং খাওয়া নিয়ে সতর্ক হয়ে পড়েছেন। যদিও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আতঙ্ক নয়, বরং পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত। পুলিশ ও স্বাস্থ্য দপ্তর যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।