ওঙ্কার ডেস্ক: ২১ জুলাই উপলক্ষে দিল্লির রাজঘাটে স্মরণসভার আয়োজন করল এনসিপিআই। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে প্রাণ হারানো ১৩ জন শহিদকে জাতীয় স্তরে স্মরণ জানাতেই রাজধানীতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির প্রতিনিধিরা এবং কর্মী-সমর্থকেরা। শহিদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নেতারা।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যুব কংগ্রেসের আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়। সেই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে নেতারা দাবি করেন, শহিদদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং সেই স্মৃতিকেই দেশের রাজধানীতে তুলে ধরাই ছিল এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।
তবে এ বছরের ২১ জুলাই উদ্যাপন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘শহিদ দিবস’ পালন করা হলেও, এবার দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দুটি পৃথক তৃণমূল শিবিরই আলাদা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। অন্যদিকে, যে ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন তাঁরা তৎকালীন যুব কংগ্রেসের কর্মী হওয়ায় কংগ্রেসও নিজস্ব কর্মসূচি পালন করছে। এরই মধ্যে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে গঠিত এনসিপিআইয়ের দিল্লির রাজঘাটে পৃথক স্মরণসভার আয়োজন রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে।
কাকলি ঘোষ জানান, ২১ জুলাই কেবল একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে প্রাণ হারানো মানুষদের স্মরণ করার দিন। তাই এই দিনটিকে সর্বভারতীয় পরিসরে তুলে ধরতেই দিল্লিতে কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।