ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ক্রমশ গভীরতর হওয়ার মাঝেই সামনে এল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাত্র ১৮ বছর বয়সি এক মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক পরীক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপই তাকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
জানা গিয়েছে, কর্ণাটকের কালাবুরাগি জেলার বাসিন্দা ওই ছাত্রী এ বছরের নিট-ইউজি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বহু বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছিল সে। পরিবারের সদস্যদের কথায়, পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং লক্ষ্যপূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল ওই তরুণী। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিজের দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশই উৎসর্গ করেছিল সে। কিন্তু পরীক্ষার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। দেশজুড়ে শুরু হয় বিতর্ক। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মানসিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছিল ওই ছাত্রীর উপর। পরিবারের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সে ক্রমশ উদ্বিগ্ন ও হতাশ হয়ে পড়ছিল। পরীক্ষার ফলাফল, ভবিষ্যৎ ভর্তি প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বাড়িতেই ছিল ওই ছাত্রী। পরে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনায় গোটা পরিবার শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের বক্তব্য, এমন মেধাবী ও পরিশ্রমী একটি মেয়ের অকাল মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তা শিক্ষাব্যবস্থার উপরও বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। সুইসাইড নোটে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নিহত ছাত্রী।
এই ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিকে ঘিরে পড়ুয়াদের উপর বাড়তে থাকা মানসিক চাপের বিষয়টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা হওয়ায় নিট-কে কেন্দ্র করে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রবল প্রত্যাশা ও চাপ তৈরি হয়। তার উপর প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল বা পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন। ফলে শুধুমাত্র পরীক্ষার নিরাপত্তা নয়, পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহল থেকে পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধরমেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিো তোলা হয়। উল্লেখ্য নিট-ইউজি র প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে এখনও পর্যন্ত দায় স্বীকার করে নি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।