ওঙ্কার ডেস্ক: হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়ার পর একে একে মৃত্যু হল পাঁচ অন্তঃসত্ত্বার। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের কোটায়। সরকারি হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে গোটা ঘটনার তদন্তে রাজস্থান সরকার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।
রিপোর্ট অনুসারে, ওই অন্তঃসত্ত্বাদের অক্সিটোসিন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। প্রসবের সময় এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ কমাতে এই ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, পরীক্ষায় ধরা পড়েছে ওই ইনজেকশনটি নকল ছিল। অভিযোগ, সন্তান প্রসবের ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওই মায়েদের রক্তচাপ কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণও দেখা যায়। গোটা রাজস্থানে ওই ইনজেকশনের বিক্রির উপর এবং ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। যদিও সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, জ্বর, অ্যালার্জি, পেটের সংক্রমণ এবং ব্যথা কমানোর আপৎকালীন চিকিৎসায়ও যে ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়েছে তা নিম্নমানের এবং নকল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিম্নমানের ওই ওষুধগুলি তৈরি হয়েছে রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন কারখানায়। কোটা ও বুন্দির ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসাররা নিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ গাইনোকোলজি ওয়ার্ড এবং ড্রাগ স্টোর থেকে বিভিন্ন ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ৩০টিরও বেশি ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল; এর মধ্যে ২১টি নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে, এবং বাকি ওষুধগুলোর পরীক্ষার রিপোর্ট শীঘ্রই বিভাগে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নবজাতক মায়েদের মৃত্যুর পর, তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লির এইমস-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল ওই দুটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে।