ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলায় ২০৮ আসন নিয়ে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করার পর ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ব্রিগেডে সেই প্রথম দফার শপথগ্রহণে তাঁর সঙ্গে মাত্র ৫ জন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন— দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, খুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। তারপর থেকে গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভার বাকি পদগুলি ফাঁকাই রাখা হয়েছিল। কেন শুভেন্দু মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে তাড়াহুড়ো করছেন না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই রহস্যের অবসান ঘটিয়ে দিল্লির সবুজ সংকেত মিলতেই পূর্ণাঙ্গ রূপ নিতে চলেছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভা। তৃণমূল জামানার শেষ হতেই ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিন থেকেই রাজধর্ম পালনে কোনও খামতি রাখতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোনও জাঁকজমক বা দ্রুত মন্ত্রিসভার বহর না বাড়িয়ে, তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন মানুষের আস্থা অর্জনে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইস্তাহারের মূল প্রতিশ্রুতিগুলি দ্রুত কার্যকর করাই ছিল তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য। সেই মত কাজও শুরু করেছে বিজেপি।
ক্ষমতায় এসেই প্রথম সপ্তাহের ভেতরেই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা রূপায়ণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা, ভিবি রাম জি তথা একশ দিনের কাজ শুরু করা এবং সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট দিশানির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া দুর্নীতি দমন এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রথম দিন থেকেই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনিক স্তরে এই জরুরি বার্তা ও নীতিগত সিদ্ধান্তগুলি স্পষ্ট করার পরই এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের চূড়ান্ত ধাপে হাত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১২০ ঘণ্টায় সম্পূর্ণ হয়েছে থমকে থাকা মেট্রোর কাজ। বিজেপির শীর্ষ সূত্রের দাবি, নতুন মন্ত্রীদের সম্ভাব্য তালিকায় রাজ্য বিজেপির একাধিক পরিচিত ও হেভিওয়েট মুখ থাকা একপ্রকার নিশ্চিত। যাঁদের নাম এই মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে, তাঁরা হলেন—তাপস রায়, স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। প্রসঙ্গত, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবই কলকাতায় মেট্রো সম্প্রসারণের প্রধান বাধা ছিল বলে জানান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের কাজ দীর্ঘদিন ধরেই থমকে রয়েছে। সেই নিয়ে মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। ৩১৬ বর্গমিটার অংশের কাজ নিয়েই যত ঝামেলা। নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক জোড়ার জন্য ১৫ মে থেকে অরেঞ্জ লাইনের কাজ শুরু হবে।৫-১৮ মে ও ২২-২৪ মে যান নিয়ন্ত্রণ করে চিংড়িঘাটায় চলবে লাইন জোড়ার কাজ। বাইপাসে যান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, এ কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তবে পুলিশের তরফ থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না যান নিয়ন্ত্রণের অনুমতি।বাইপাসে সারা বছর যানবাহনের চাপ থাকে। সেই কারণেই এই রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে জানিয়েছিল কলকাতা পুলিশ।