ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর প্রদেশে বড়সড় জঙ্গি চক্রান্ত ভেস্তে দিল অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস)। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেশের ভিতরে নাশকতা চালানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে হিন্দু যুবকদের ব্যবহার করার ছক কষছিল পাকিস্তানের একটি জঙ্গি মডিউল।
জানা গিয়েছে, এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল তথাকথিত ‘গজওয়া-এ-হিন্দ’ পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা। সরাসরি হামলার বদলে ধীরে ধীরে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি করাই ছিল তাদের কৌশল। আর সেই কারণেই এমন এক পন্থা নেওয়া হয়, যাতে সন্দেহ কম হয় এবং সহজেই সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করা যায়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন হিন্দু যুবকও রয়েছে, যাদের বিশেষভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাদের নতুন পরিচয়, কোডনেম দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঠানো হত। মূলত মন্দির, ধর্মীয় সমাবেশ কিংবা সেনা ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গিয়ে তারা গোপনে ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করত। এরপর সেই তথ্য বিদেশে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত। এর পরিবর্তে এদের দেওয়া হত বিপুল অর্থের পরিমাণ।
এই চক্রটির সঙ্গে পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু জায়গায় থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রথমে যোগাযোগ স্থাপন করা হত। এরপর ধীরে ধীরে ব্রেনওয়াশ করে যুবকদের এই কাজে নামানো হত। অনেক ক্ষেত্রে অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই নেটওয়ার্ক ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গার রেকি সম্পন্ন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে মোবাইল অ্যাপ ও লোকেশন ট্র্যাকিং ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে তথ্য সংগ্রহ করা হত। তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, এই তথ্য ভবিষ্যতের বড়সড় হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই জোগাড় করা হচ্ছিল।
এটিএস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই চক্রটির শিকড় কতটা গভীরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনার পর গোটা দেশে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছদ্মবেশে এবং ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর এই নতুন কৌশল নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।