ওঙ্কার ডেস্ক: নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের ব্যবহার নিয়ে জনমানসে সম্প্রতি বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এই আবহে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হল, পাসপোর্ট মূলত একটি ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি; এটিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে, পাসপোর্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ ভারতীয়র জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগ সহজ করার লক্ষ্যে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়। বিদেশ মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, ভারতীয় নাগরিকদেরই পাসপোর্ট দেওয়া হয়, তবুও এই নথির মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বিদেশে পরিচয় নিশ্চিত করা। প্রসঙ্গত, এর আগে আধার এবং ভোটার আইডি কার্ডের মতো অন্যান্য নথিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
বর্তমানে আবেদন করার পর কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাত্র পাঁচ দিনেই পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে মন্ত্রকের তরফে। আধিকারিকরা জানান, আবেদনকারীদের ‘পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র’-গুলিতে ৪৫ মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। যা প্রযুক্তিগত সংস্কারের সুফলকেই তুলে ধরে। উল্লেখ্য,
ভারতের পাসপোর্ট পরিষেবা নেটওয়ার্কে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে। এক দশক আগে এই পরিষেবার পরিধি ছিল অনেকটাই সীমিত। বর্তমানে সারা দেশে ৫৪৫টি পাসপোর্ট পরিষেবা কেন্দ্র রয়েছে। আধিকারিকদের মতে এই নেটওয়ার্ক ছয় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার চলতি বছরে আরও ২০টি ‘পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র’ খোলার পরিকল্পনা করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে অন্তত একটি পাসপোর্ট পরিষেবা কেন্দ্র নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।