ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে এই আশঙ্কাকে সামনে রেখেই তৎপর হল কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শীর্ষস্তরের মন্ত্রীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
সূত্রের খবর, বৈঠকে পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে, যা ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর দেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে সরবরাহে কোনও ঘাটতি তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, দেশের সাধারণ মানুষের উপর যাতে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কোনও বিরূপ প্রভাব না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি, প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং আমদানি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সারের জোগান যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ এই দুই ক্ষেত্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে শিল্প ও কৃষি খাত, যা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের জ্বালানি আমদানির ওপর। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে কেন্দ্র এই বৈঠক করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার যে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে।