ওঙ্কার ডেস্ক: ইদ-উল-আজহার আবহে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তুলল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছাবার্তা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো চিঠিতে ইদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে সেই বার্তা, যার পরেই তা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে শুরু করেছে।
চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেন, ইদ-উল-আজহা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা, ক্ষমাশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। এই উৎসব সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা বহন করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভারতের কোটি কোটি মুসলিম নাগরিক প্রতি বছরের মতো এ বছরও উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে ইদ-উল-আজহা পালন করছেন এবং এই উৎসব দেশের সামাজিক ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মোদি লেখেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত গড়ে উঠেছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক বন্ধন, সাংস্কৃতিক মিল, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আত্মত্যাগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে। তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের স্বার্থে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি।
চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সুখ, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন তিনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন আলোচনার আবহে এই শুভেচ্ছাবার্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইঙ্গিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইদ-উল-আজহা উপলক্ষে প্রতিবছরই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ের রীতি রয়েছে। তবে এ বছরের বার্তাকে ঘিরে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে কারণ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মোদির এই বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।