ওঙ্কার ডেস্ক: ‘আরজি কর মামলা নিয়ে সমস্ত রকম সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারিকে এমনটাই বলেলন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। ন্দোলন পর্বেও তিনি এ বিষয়ে একাধিক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁকে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনকে সমর্থন করতে এবং ‘রাতদখল’ কর্মসূচিতে রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর শান্তনু জানিয়ে দিলেন, নতুন সরকারকে ওই সংক্রান্ত যে কোনও তদন্তে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। এমনকি কিছুদিন আগে বিজেপির নয়া সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। আর সেই নিয়ে রীতিমত অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে তৃনমূলকে। বুধবার আর রাখঢাক না-করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন শান্তনু। অভিযোগ, আরজি কর পর্বে মুখ খোলার জন্য তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়। তাঁর রেজিস্ট্রেশনও বাতিল করে দেওয়া হয়। মেয়ের মুখ চেয়ে তাই সে সময় চুপ করে গিয়েছিলেন, দাবি শান্তনুর। তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু বুধবার বলেছেন, ‘‘চিকিৎসক এসপি দাসের নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গ লবির কান্ডারি সুদীপ্ত রায়, সুশান্ত রায়, সন্দীপ ঘোষ, অভীক দে, বিরুপাক্ষ বিশ্বাস, সৌরভ পালদের মাধ্যমে রাজ্য স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল, রিক্রুটমেন্ট বোর্ড-সহ বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ এবং পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির যে আখড়া হয়েছিল, আমি তার বিরুদ্ধে প্রথম মুখ খুলেছিলাম। তৎকালীন রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান হিসাবে আরজি করের সমস্ত দুর্নীতি তথ্যপ্রমাণ-সহ তৎকালীন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিচারের বদলে আমাকেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’’ উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর দল থেকে সাসপেনশন নোটিশ তুলে ফেলা হয়। পালাবদলের সময় থেকে বেশ কয়েকবার বিজেপি সরকারেরে ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। শান্তনুর দাবি, তাঁর বৈধ ফেলোশিপকে জোর করে অবৈধ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিaল। বাতিল করা হয়েছিল চিকিৎসক হিসাবে তাঁর রেজিস্ট্রেশন। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা প্রমাণ করে দিয়েছিল ওরা কতটা হিংস্র হতে পারে।’’ এর পরেই বর্তমান সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে শান্তনুর বক্তব্য, ‘‘বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আরজি করের দুর্নীতি এবং ধর্ষণ-খুনের তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে। আমি সাধুবাদ জানাই। প্রয়োজনে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।’’