ওঙ্কার ডেস্ক: নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল মহিলা চিকিৎসকের দেহ। পাঞ্জাবের জলন্ধরে ওই চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান ওই মহিলা আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের স্বামী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। সেই সঙ্গে অন্য নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল তাঁর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের নাম মীনাক্ষী। তাঁর স্বামীর নাম পীযূষ। পীযূষ নিজেও একজন চিকিৎসক। জলন্ধরের ন্যাশনাল আই হাসপাতালের মালিক তিনি। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন মীনাক্ষী। বুধবার নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মীনাক্ষীকে। বাড়ির সব দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পুলিশ কাঁচের জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের অক্টোবরে মীনাক্ষী ও পীযূষের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর তিনি একটি গাড়ি কিনেছিলেন। যার ইএমআই শোধ করছিলেন নিজের বেতন থেকে। মীনাক্ষীর পরিবারের দাবি, তাঁর স্বামী যে হাসপাতাল পরিচালনা করতেন, সেখানকারই এক নার্সের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন মীনাক্ষী। মীনাক্ষীর মায়ের অভিযোগ, এরপর থেকেই পীযূষ তাঁকে মারধর করতেন। এমনকি মারধরের পর পীযূষ প্রায়ই স্ত্রীর মাকে ফোন করে বলতেন, ‘আমি মীনাক্ষীকে মেরেছি, আমি ভুল করেছি।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীর শারীরিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি জুলাই মাস থেকে আলাদা থাকছিলেন। বিবাহবিচ্ছেদের কথাও ভাবছিলেন, কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে আদালতে যাওয়ার আগে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পীযূষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তদন্তকারীরা।