ওঙ্কার ডেস্ক: দেশজুড়ে NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়াতে চলেছে কংগ্রেস। এই ইস্যুকে সামনে রেখে নতুন জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র-যুব সমাজের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং তাদের সমস্যাকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র সম্মেলন, আলোচনা সভা এবং জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন রাহুল।
কংগ্রেসের অভিযোগ, NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বহু পরীক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও প্রশ্নফাঁসের কারণে গোটা পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ঘটনায় কেন্দ্রের শিক্ষা মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি করা উচিত।
রাহুল গান্ধী বারবার দাবি করে আসছেন যে এই ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত। তাঁর মতে, শুধু তদন্তের আশ্বাস দিলেই চলবে না, পরীক্ষাব্যবস্থাকে সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ রাখার ক্ষেত্রে যে ব্যর্থতা সামনে এসেছে, তার দায়ও নিতে হবে। সেই দাবিকেই আরও জোরালোভাবে সামনে আনতে দেশব্যাপী আন্দোলনের পথে হাঁটছে কংগ্রেস।
দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে শুধুমাত্র NEET প্রশ্নফাঁস নয়, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ, বেকারত্ব এবং শিক্ষাক্ষেত্রের নানা সমস্যা তুলে ধরা হবে। ছাত্র ও যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার লক্ষ্যও রয়েছে এই উদ্যোগের পিছনে।
কংগ্রেসের মতে, গত কয়েক বছরে একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্যস্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী মানসিক চাপের মুখে পড়েছে এবং পরীক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে দাবি করছে বিরোধী দল।
অন্যদিকে, বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকার বিরোধীদের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। সরকারের বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র তদন্ত নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে ছাত্র-যুবদের ইস্যুকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। NEET প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস যে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে, তা শুধু শিক্ষাক্ষেত্রের সংকট নয়, যুব সমাজের বৃহত্তর অসন্তোষকেও সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে এই কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।