ওঙ্কার ডেস্ক: ওমান উপসাগরের কাছে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাঁর মতে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এমন একটি ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনের আচরণ অত্যন্ত হতাশাজনক।
জানা গিয়েছে, ওমান উপকূল সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। ওই জাহাজে কর্মরত ছিলেন একাধিক ভারতীয় নাবিক। হামলার পর তিন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তাঁদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ভারতের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই প্রেক্ষাপটে শশী থারুর প্রশ্ন তোলেন, একটি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এমন প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপ কতটা ন্যায্য ছিল। তাঁর বক্তব্য, যদি জাহাজটির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থেকেও থাকে, তাহলে সেটিকে থামানোর জন্য আরও অনেক বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করা যেত। সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থনযোগ্য বলে মনে করেন না।
থারুর আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে নিহত ভারতীয়দের প্রতি যথাযথ সমবেদনা বা দুঃখপ্রকাশের অভাব ছিল। তাঁর মতে, যে কোনও মানবিক বিপর্যয়ের পর আন্তর্জাতিক দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া উচিত এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো প্রয়োজন ছিল।
এদিকে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ভারত সরকারও। কূটনৈতিক স্তরে আমেরিকার কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়ভাবে নজরদারি করছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু শুধু একটি মর্মান্তিক ঘটনা নয়, বরং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায় নির্ধারণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। নিহত নাবিকদের পরিবারও ন্যায়বিচার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।