ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সোনার মজুতকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ সংস্থা ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, টাকার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষার উদ্দেশ্যে আরবিআই বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি করে থাকতে পারে। এই দাবি সামনে আসতেই অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের শেষ সপ্তাহের আগে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সোনা আরবিআইয়ের রিজার্ভ থেকে সরানো হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ভারতীয় মুদ্রা টাকার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে শক্তিশালী রাখতেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সোনার অংশ কমিয়ে অধিক তরল বিদেশি মুদ্রা সম্পদ ধরে রাখার কৌশল গ্রহণ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়, একই সময়ে বিদেশি মুদ্রা সম্পদের পরিমাণে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। ফলে অর্থনীতিবিদদের একাংশের অনুমান, সোনার একটি অংশ বিক্রি করে তা বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদে রূপান্তরিত করা হয়ে থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় এমন কৌশলগত পরিবর্তন আনে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। তবে এই জল্পনা দ্রুত খারিজ করে দিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশের মোট সোনার মজুতে কোনও হ্রাস ঘটেনি এবং রিজার্ভে থাকা সোনার পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। আরবিআইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সোনা বিক্রির যে দাবি করা হচ্ছে তা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, তাদের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ আগের মতোই বজায় রয়েছে।
সরকারি সূত্রও একই অবস্থান নিয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, টাকার বিনিময় মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষার উদ্দেশ্যে সোনা বিক্রি করা হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনও সরকারি ভিত্তি নেই। সরকারের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ওঠানামা আন্তর্জাতিক বাজারের নানা কারণেই হয়ে থাকে এবং তা থেকে সরাসরি সোনা বিক্রির সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তবে এই বিতর্কের মধ্যেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ পাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ কিছুটা কমেছে এবং গত এক বছরের মধ্যে তুলনামূলক নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সোনার বাজারদরেও ওঠানামা দেখা গিয়েছে। ফলে রিজার্ভের মূল্যায়নে পরিবর্তন হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।