ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের পাকিস্তানিকে কেন্দ্র করে এক মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা নিয়ে ডাকা এক সর্বদলীয় বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ভারত কোনওভাবেই “দালাল রাষ্ট্র” বা মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চায় না। এই প্রসঙ্গেই তিনি পরোক্ষভাবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেন, যা ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত।
ভারতের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। নয়াদিল্লির মতে, দেশের বিদেশনীতি সর্বদাই স্বাধীন ও স্বনির্ভর। কোনও আন্তর্জাতিক সংঘাতে তৃতীয় পক্ষের ‘ব্রোকার’ হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে, ভারত সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর জোর দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে ভারত মূলত তার ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তাই স্পষ্ট করতে চেয়েছে।
জয়শঙ্করের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সেদেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের শব্দচয়ন কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তানের নেতারা আরও দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করা কোনওভাবেই নেতিবাচক নয়, বরং তা একটি দায়িত্বশীল কূটনৈতিক অবস্থান। বর্তমান সময়ে যখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ইসলামাবাদ নিজেকে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী। এই প্রেক্ষাপটেই জয়শঙ্করের মন্তব্যকে তারা অপমানজনক বলে ব্যাখ্যা করেছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারত ও পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। যেখানে পাকিস্তান নিজেকে একটি মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে, সেখানে ভারত সেই পথ থেকে সরে থেকে নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফলত, একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আসলে বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক ভূমিকাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।