ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশে বিতর্কিত ধর্মীয় স্থান ‘ভোজশালা’ মামলায় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত, জয়মাল্য বাগচি এবং বিপুল এন পাঞ্চোলীর ডিভিশন বেঞ্চে বৃহস্পতি বার রায় শোনানো হয়। রায়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ২৩-এ জানুয়ারি শুক্রবার সুর্যোদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত হিন্দুরা সেখানে প্রার্থনা করতে পারবে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ জন সেখানে বেলা ১ থেকে ৩ টে পর্যন্ত সেখানে নামাজ পরতে পারবে।
উল্লেখ্য, এবছর, বসন্ত পঞ্চমী অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর দিনে এই বিতর্কিত স্থানে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কেই নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই দিনে হিন্দুদের সরস্বতী পূজা এবং মুসলিমদের জুম্মার নামাজ পড়ার সময় পড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই আদালতের এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমীর দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হিন্দু ভক্তরা সেখানে পূজা-অর্চনা করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে দুপুরের মধ্যে জুম্মার নামাজ আদায়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের ধর্মীয় অধিকার যাতে বিঘ্নিত না হয় এবং একই সঙ্গে কোনও রকম উত্তেজনা বা সংঘর্ষ এড়ানো যায়, সে দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। স্থানীয় প্রশাসনকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ভোজশালা চত্বরটি বহু বছর ধরেই দুই সম্প্রদায়ের দাবির কেন্দ্রে। হিন্দুদের একাংশের মতে, এটি দেবী সরস্বতীর প্রাচীন মন্দির, যেখানে বসন্ত পঞ্চমীতে বিশেষ পূজার ঐতিহ্য রয়েছে। অন্যদিকে মুসলিমদের দাবি, এই স্থানটি কমল মৌলা মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং বহুদিন ধরেই সেখানে নামাজ আদায় করা হয়। অতীতে প্রশাসনের তরফে নির্দিষ্ট দিন ভাগ করে দেওয়া হলেও বিশেষ উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ দিনে সময়ের মিল পড়লে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। এবারও বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবার পড়ায় পরিস্থিতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সেই কারণেই আগেভাগেই আদালতের দ্বারস্থ হয় উভয় পক্ষ। আদালত শুনানির পর স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা যাবে না, আবার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। সমঝোতার পথেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
রায় ঘোষণার পর ধার শহর এবং সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি বাড়ানো, ভিড় নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি, সব দিক থেকেই প্রশাসন সতর্ক। স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক নেতৃত্বও শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে। ধর্মীয় সংবেদনশীলতার এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন। একই স্থানে দুই সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে উৎসব পালনের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ এবং ধর্মনিরোপেক্ষতার এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
