ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বহুল চর্চিত কয়লা পাচার মামলার শুনানিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এতদিন ধরে তদন্ত চললেও মামলার অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর, যা বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, তদন্তকারী সংস্থার দায়িত্ব অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাকে বিচারিক পরিণতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যা করতে অনেকটাই সময় অপচয় করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা ইডির ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালত জানতে চায়, দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন তদন্তে প্রত্যাশিত গতি নেই এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা ইঙ্গিত দেন, তদন্তের নামে অনির্দিষ্টকাল সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক দুর্নীতির মামলায় দ্রুত, নিরপেক্ষ এবং কার্যকর তদন্ত অপরিহার্য।
কয়লা পাচার মামলাটি রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত। অভিযোগ রয়েছে, বেআইনি কয়লা উত্তোলন ও পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে, যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতারা। এই মামলায় ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সক্রিয় হয়েছে, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, তদন্তের বর্তমান ধারা আদালতের কাছে সন্তোষজনক নয়।
আদালতের এই কড়া মনোভাবের ফলে তদন্তকারী সংস্থার উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একই সঙ্গে, মামলার ভবিষ্যৎ গতি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আরও গতি আসতে পারে এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসারে ইডিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হতে পারে। ফলে রাজ্য রাজনীতি, প্রশাসনিক পরিসর এবং জাতীয় স্তরেও এই মামলার প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।