ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এখনও বাতিল হয়নি। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তাঁর বক্তব্য, ঢাকার তরফে এখনও দিল্লির জবাবের অপেক্ষা করা হচ্ছে। রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও সফরের আগে অনুকূল পরিবেশের কথা জানিয়েছিল। ঢাকার দাবি, এর জন্য কয়েকটি বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট আশ্বাস প্রয়োজন।
বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নিশ্চয়তা চাইছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
এখনও বাংলাদেশের বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি নয়াদিল্লি। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান ঢাকার প্রত্যাশার সঙ্গে মিলবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ভারত আপাতত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে চাইছে না বলে সূত্রের খবর। ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পক্ষেই নয়াদিল্লি বলে জানা গিয়েছে।
তবে হাদীর হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের ফেরানোর বিষয়ে ভারত তুলনামূলক নমনীয়। ঢাকাকে সেই বার্তা আগেই দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এই বিষয়ে সমঝোতা হলে চলতি মাসেই তারেক রহমানের দিল্লি সফর হতে পারে। এমন সম্ভাবনাই দেখছে নয়াদিল্লি।
তবে সফর নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও মতভেদ রয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বের একাংশ সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে জানা গিয়েছে। তাদের যুক্তি, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে। তাই ভারতের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করে বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছে বলেও বিএনপির ওই অংশ মনে করছে। গঙ্গা ও তিস্তার জলবণ্টন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। গঙ্গা চুক্তির পুনর্নবীকরণের সময় সরাসরি মোদির সঙ্গে বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিএনপির একাংশ।