ওঙ্কার ডেস্ক: নাসিকের একটি আইটি সংস্থাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ওঠা ধর্মান্তর এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে টিসিএস তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই ধরনের কোনও অভিযোগ তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়েনি।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কর্মীদের অভিযোগ জানানোর জন্য নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম যেমন নৈতিকতা সংক্রান্ত হেল্পলাইন বা পশ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মান্তর বা যৌন হেনস্থার কোনও লিখিত বা নথিভুক্ত অভিযোগ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখেছে এবং প্রাথমিক তদন্তেও এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি যা এই অভিযোগগুলিকে সমর্থন করে।
তবে এই দাবি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। কারণ, সংস্থার বাইরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কর্মক্ষেত্রে কিছু কর্মীকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর করতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মানসিক ও শারীরিক হেনস্থার ঘটনাও। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় প্রশাসন একাধিক মামলা দায়ের করেছে এবং কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে টিসিএস ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং একটি স্বাধীন নজরদারি কমিটি গঠন করেছে, যাতে গোটা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা যায়। এই কমিটিতে সংস্থার বোর্ড স্তরের সদস্যরাও রয়েছেন, যা এই ঘটনার গুরুত্বকেই তুলে ধরে।
এছাড়াও, সংস্থা বাইরের বিশেষজ্ঞ সংস্থা ও আইনি পরামর্শদাতাদের সাহায্য নিচ্ছে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়। টিসিএস পুনরায় জানিয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যে কোনও ধরনের হয়রানি, জবরদস্তি বা অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে এবং কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাটি ইতিমধ্যেই আইনি পরিসরেও প্রবেশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি আবেদন দায়ের হয়েছে, যেখানে জোরপূর্বক ধর্মান্তরকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুতর ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।