ওঙ্কার ডেস্ক: ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস সংশোধনী বিল, ২০২৬ রাজ্যসভায় পাস হওয়ায় এই আইনগত পরিবর্তন এখন কার্যকর হওয়ার আরও একধাপ কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই সংশোধনী বিলটি মূলত ২০১৯ সালের বিদ্যমান আইনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক পুনর্বিবেচনা করে তৈরি করা। আগের আইনে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের অনুভূত লিঙ্গপরিচয় বা ‘সেলফ-পার্সিভড জেন্ডার আইডেন্টিটি’-কে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, নতুন সংশোধনীতে সেই বিধানে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে হলে একটি নির্দিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ডের যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
এই বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতেই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়পত্র প্রদান করবেন। ফলে আইনি স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও চিকিৎসাগত স্তরে একাধিক ধাপ যুক্ত হচ্ছে। সরকারের মতে, এই নতুন পদ্ধতি আইনের অপব্যবহার রোধ করবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
সংশোধনী বিলে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অপহরণ, জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বা অন্য কোনও ধরনের শোষণের মতো অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে এই বিল ঘিরে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এবং ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগ, এই সংশোধনী ব্যক্তির স্ব-পরিচয়ের মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে। তাঁদের মতে, লিঙ্গপরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল বোর্ডের বাধ্যতামূলক হস্তক্ষেপ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মর্যাদার পরিপন্থী হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ইস্যুতে মতভেদ দেখা গিয়েছে। একদিকে সরকার যেখানে সংশোধনীকে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত বলে দাবি করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ এই বিলকে অধিকতর সংবেদনশীলভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। রাজ্যসভায় বিলটি পাস হলেও, এটি আইনে পরিণত হতে গেলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন। তবে ইতিমধ্যেই এই সংশোধনীকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আরও বিতর্ক ও মতামত সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।