ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে এক সরকারি চিকিৎসককে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এক দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত ঘুষ দিতে না পারায় চিকিৎসক ইচ্ছাকৃতভাবে এক নাবালিকার ভাঙা পা ফের ভেঙে দেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্বাস্থ্য পরিষেবার মানবিকতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অভিযোগকারিণী রেশমা নামে এক মহিলা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কিশোরী মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ এবং কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যায়। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে যান। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তিনি স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে সাহায্য চান। অভিযোগ, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ওই নাবালিকার বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেই দাবি পরিবারের। রেশমার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক চিকিৎসার জন্য তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। মেয়ের চিকিৎসার স্বার্থে ধারদেনা করে তিনি কিছু অর্থ জোগাড় করেন এবং চিকিৎসককে দেন। এরপর শিশুটির পায়ে প্লাস্টার করা হয় এবং চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু কিছুদিন পর চিকিৎসক ঘুষের বাকি অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ।
রেশমার দাবি, অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি চিকিৎসকের কাছে সময় চান। তখনই চিকিৎসক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, পরবর্তী কালে ঐ পরিবারকে ডেকে চিকিৎসার নামে শিশুটির পায়ে এমনভাবে চাপ দেওয়া হয় যে আগের জোড়া লাগানো হাড় আবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, এর ফলে নাবালিকার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে এবং সে তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে।
ঘটনার পর রেশমা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দরিদ্র হওয়ার কারণে তাঁদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে এবং মেয়ের জীবনের সঙ্গে ছেলেখেলা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সত্যিই বিনামূল্যে চিকিৎসার সরকারি নির্দেশ থাকত, তাহলে কেন রোগীর পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হল। পাশাপাশি, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা চিকিৎসা নীতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। তদন্তে যদি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।