ওঙ্কার ডেস্ক: ফের দেশে বন্দেমাতরম নিয়ে বিতর্ক। সোমবার কেরলে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রির পদে শপথ গ্রহণ করেন ভিসি সতীশন। শপথগ্রহণ পাঠের সময় বন্দেমাতরমের পুরো স্তবক গাওয়া হয় অনুষ্ঠানে। এর এতেই ক্ষুব্ধ রাজ্যের বাম সংগঠন। তাকের কথায় বন্দেমাতরমের পুর স্তবকে এমন কিছু অংশ আছে যা দেশের সাংবিধানিক মর্যাদাকে লঙ্ঘন করে। ভারত একটি ধর্মনরোপেক্ষ দেশ, কিন্তু বন্দেমাতরমের কিছু লাইন এই মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে জোর দাবি করে বাম। আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথগ্রহণের মত অনুষ্ঠানে এই গান গাওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের বাম সংগঠন। অন্যদিকে ‘মার্কসবাদ’ ভারতের আদর্শের সঙ্গে সমঞ্জস্যপুর্ন নয় বলে পাল্টা আঘাত করে বিজেপি।
বাম শিবিরের অভিযোগ, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়া দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সিপিএম নেতাদের দাবি, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই গানটির প্রথম দুটি স্তবককে সরকারি ও সর্বজনগ্রাহ্য অংশ হিসেবে ধরা হয়েছিল। কারণ পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবীচেতনার উল্লেখ রয়েছে, যা বহু ধর্মাবলম্বী দেশের ক্ষেত্রে বিতর্ক তৈরি করতে পারে। সেই ঐতিহাসিক অবস্থানকে অগ্রাহ্য করেই বর্তমান সরকার রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাম নেতৃত্ব।
সিপিআই নেতা বিনয় বিশ্বম বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বহু জাতীয় নেতা আলোচনা করেই ‘বন্দে মাতরম্’-এর সীমিত অংশ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, সেই ঐকমত্য দেশের বৈচিত্র্য ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়েই তৈরি হয়েছিল। এখন সম্পূর্ণ গান গাওয়াকে কেন্দ্র করে অযথা আবেগতাড়িত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি বামেদের সমালোচনাকে “জাতীয় আবেগের বিরোধিতা” বলে কটাক্ষ করেছে। বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর বলেন, ‘বন্দে মাতরম্’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক এবং তা নিয়ে আপত্তি তোলা মানে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অসম্মান করা। তাঁর দাবি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্যই বামপন্থীরা এমন অবস্থান নিচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয়তাবাদ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে দেশজুড়ে যে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, কেরলের এই ঘটনাও তারই প্রতিফলন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সম্প্রতি সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তার পরপরই কেরলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।