ওঙ্কার ডেস্ক: বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে গুগল ও আদানি গোষ্ঠীর বিশাল ডেটা সেন্টার প্রকল্প। বিনিয়োগ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। তৈরি হতে পারে বিপুল কর্মসংস্থান, বাড়তে পারে প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ। কিন্তু এই উন্নয়নের পাশেই রয়েছে অন্য একটি বাস্তবতা। শহরে প্রতিদিন প্রায় ৭ কোটি লিটার জলের ঘাটতি। সেই শহরেই এত বড় ডেটা সেন্টারের দীর্ঘমেয়াদি জল সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। প্রকল্পের কাছেই রয়েছে কাম্বলাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যেখানে চিতাবাঘ ও বনরুইয়ের মতো প্রাণী রয়েছে। নির্মাণকাজ, শব্দ, আলো এবং জলসম্পদের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। গুগল অবশ্য উন্নত বায়ু-শীতলীকরণ ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এআই-এর ভবিষ্যৎ গড়তে গিয়ে স্থানীয় পরিবেশের উপর কতটা চাপ পড়বে? ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি গিগাওয়াট-স্কেলের ডেটা সেন্টার পরিকাঠামো তৈরি করবে এবং ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিষেবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার কথা। তথ্য অনুযায়ী, বিশাখাপত্তনমে প্রতিদিন প্রায় ৪১ কোটি লিটার জল সরবরাহ করা হলেও প্রয়োজন প্রায় ৪৮ কোটি লিটার। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৭ কোটি লিটার ঘাটতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘমেয়াদি জল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পরিবেশকর্মী এবং স্থানীয়দের আপত্তি তৈরি হয়েছে। এই অভিযোগ অবশ্য অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার মানছে না। সরকারের বক্তব্য, গ্রামীণ বা আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জল এই প্রকল্পে সরিয়ে নেওয়া হবে না। কাছাকাছি কোনও জলাধার থেকেও জল নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে সরকারের দাবি। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, বিশ বছরের জল সরবরাহের নিশ্চয়তা যখন দেওয়া হচ্ছে, তখন ভবিষ্যতে এই বিপুল পরিকাঠামোর জলচাহিদা কীভাবে সামলানো হবে। এই প্রশ্ন নিয়েই আদালতে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে একাধিক আইনি আপত্তিও সামনে এসেছে। পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, জলসম্পদ এবং বন্যপ্রাণীর উপর প্রকল্পটির সামগ্রিক প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়নি। গুগল ও আদানি গোষ্ঠীর দাবি, প্রকল্পটি ভারতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করবে এবং বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করবে। প্রকল্পটি প্রায় ১ লক্ষ ৮৮ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গিগাওয়াট-স্কেলের কম্পিউটিং পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ এবং সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আসা উচ্চগতির যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে এই কেন্দ্রকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এটি শুধুমাত্র একটি ডেটা সেন্টার নয়, ভারতের ভবিষ্যৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থনীতির অন্যতম বড় পরিকাঠামো হয়ে উঠতে পারে। এই বিশাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই দ্রুত এগোচ্ছে। একই সময়ে জল সরবরাহ, বন্যপ্রাণী এবং পরিবেশগত অনুমোদন নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। একদিকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগ, অন্যদিকে প্রতিদিন ৭ কোটি লিটার জল ঘাটতিতে থাকা একটি শহর এবং কয়েকশো মিটার দূরে থাকা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য—এই তিনটি বাস্তবতা এখন একই প্রকল্পকে ঘিরে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে।