ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি পুলিশ জোর করে শনিবার অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে গেলেও এই সমাজকর্মী চিকিৎসা পরিষেবা নিতে রাজি হননি। এদিন সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০ দিনের অনশন শেষে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে সোনম ওয়াংচুককে। তিনি জলশূন্যতা ও বিপাকীয় জটিলতায় ভুগছেন। তা সত্ত্বেও আইভি ফ্লুইড, ওআরএস এবং অন্যান্য ওষুধ নিতে অস্বীকার করেছেন।
চিকিৎসকরা জানান, সমাজকর্মীর স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধারাবাহিক ভাবে পর্যবেক্ষণেও রাখা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁকে ভর্তি করা হয়। যেহেতু ২০ দিন ধরে কিছু খাননি তাই ভর্তির সময় তাঁর শারীরিক দুর্বলতা ছিল। হাসপাতালের স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলা হয়েছে, তাঁর অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কোনও ইতিহাস নেই। হাসপাতালে ভর্তির সময় তিনি সচেতন ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁর নাড়ির গতি, রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক ছিল। তবে তাঁর মধ্যে জলশূন্যতার লক্ষণ ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদিও আইভি ফ্লুইড দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু রোগী সব ধরনের আইভি ফ্লুইড, ওরাল রিহাইড্রেশন ফ্লুইড বা অন্য কোনও ওষুধ গ্রহণে রাজি হননি।’
উল্লেখ্য, নিট ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের জেরে দেশে একাধিক পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন করছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার তাঁর আমরণ অনশন ২১ দিনে পড়েছে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার কারণে পুলিশ দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ওই সমাজকর্মীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে সফদরজং হাসপাতালের মেডিকেল সুপারের কাছে চিঠি লিখে সোনমের স্ত্রী আংমো দাবি করেছেন, তাঁর সম্মতি ছাড়া ওয়াংচুককে যেন কোনও মুখে খাওয়ার বা শিরায় প্রয়োগযোগ্য ওষুধ বা তরল দেওয়া না হয়। তিনি সব মেডিকেল রিপোর্টের কপিও চেয়ে পাঠান।