ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এই পরিস্থিতিতে ৫৬ বছর আগে খাড়ি যুদ্ধ বা গাল্ফ ওয়ারের সেই সময়ের পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ১৯৯১ সালে সংঘাতের ফলে গ্যাস ও জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে মনে করছেন পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়বে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের রিপোর্ট অনুসারে, যদি উত্তেজনা বাড়ে এবং হরমুজ প্রণালীতে দীর্ঘ দিন ধরে অচলাবস্থা থাকে তাহলে ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ব্যারেল প্রতি ১২৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। আর এর প্রভাব হবে মারাত্মক, যার ফলে ভারতের ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট থেকে ১৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বেরিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অনুভূতি সহায় ব্লুমবার্গের রিপোর্টে বলেছেন, ‘এই অর্থবর্ষে ভারতের ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ঘাটতিতে থাকবে, যা আগে কখনও ঘটেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী অর্থবর্ষে টানা তৃতীয় বছরের মতো ব্যালেন্স অফ পেমেন্টে ঘাটতির ঝুঁকি বেড়েছে।’ জ্বালানি সঙ্কটের এই পরিস্থিতি বিশেষজ্ঞরা ১৯৯১ সালের কথা স্মরণ করছেন। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সৌম্য কান্তি ঘোষ বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজার ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে চলে যাওয়ায় ভারত এই অর্থবছরে মূলধন হিসাবের ঘাটতির সম্মুখীন হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর এমনটা আর কখনও ঘটেনি।’