ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতির জেরে খুন বলে দাবি করা হলেও, তদন্তে সামনে এসেছে এক শিহরণ জাগানো ষড়যন্ত্রের কাহিনি, যার কেন্দ্রে রয়েছেন নিহতের স্ত্রীই।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মৃত যুবক দেবকৃষ্ণ পুরোহিত নিজের বাড়িতেই খুন হন। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত দাবি করেন, গভীর রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং বাধা দিতে গেলে তাঁর স্বামীকে খুন করে। তিনি নিজেও দুষ্কৃতীদের হাতে আটকে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন। প্রথমদিকে সেই বয়ানের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর থেকেই পুলিশের সন্দেহ তৈরি হতে থাকে। ঘরের অবস্থা, লুটপাটের চিহ্ন এবং স্ত্রীর বয়ানের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে বাড়ির মধ্যেই এমন কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়, যা লুট হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছিল। এরপরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
তদন্তে ধীরে ধীরে উঠে আসে যে, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে অন্য এক যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরে স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে মিলে ভাড়াটে খুনির সাহায্যে এই হত্যার ছক কষেন তিনি। খুনের জন্য নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে সুপারি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে। পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই দেবকৃষ্ণকে নানা ভাবে মানসিকভাবে অপমান করতেন তাঁর স্ত্রী। বিশেষ করে তাঁর গায়ের রং নিয়ে নিয়মিত কটূক্তি করা হত। এই অপমান ও দাম্পত্য কলহের জেরেই পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে।
খুনের দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়ির দরজা খোলা রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। গভীর রাতে ভাড়াটে খুনি ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেবকৃষ্ণকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। এরপর ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে ঘর এলোমেলো করা হয়। ঘটনার পর প্রিয়াঙ্কা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে কান্নাকাটি এবং ‘আটকে পড়া’র নাটক করেন। কিন্তু মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ধীরে ধীরে গোটা ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে।
শেষ পর্যন্ত জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন প্রিয়াঙ্কা। ইতিমধ্যেই তাঁকে এবং তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ভাড়াটে খুনির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।