ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে প্রবাহিত গঙ্গার জলের গুণমান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যাল। নয়া দিল্লিতে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যালের প্রধান বেঞ্চ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে এই নির্দেশ দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রবাহিত গঙ্গার জলের গুণমান পর্যবেক্ষণের প্রাথমিক তথ্য-সহ একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাবুন্যাল।
গত ৮ অক্টোবর গঙ্গা নদীর পর্যবেক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার বিষয়ে বিশেষ করে নদীর পশ্চিমবঙ্গ অংশে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণের প্রেক্ষিতে মামলাটির শুনানি হয় ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যালের চেয়ারপার্সন বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য ডঃ এ সেন্থিল ভেলের বেঞ্চে। নির্দেশে গ্রিন ট্রাইবুন্যাল কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে বলেছে, ই কোলাই-সহ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার প্যারামিটারের উপর নেওয়া নমুনা থেকে পাওয়া বিস্তারিত প্রাথমিক তথ্য চার সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। বিজ্ঞানীরা প্রায় সময় এই ব্যাকটেরিয়াজনিত সূচকগুলি বিশেষ করে মল জাতীয় পদার্থ থেকে দূষণের প্রেক্ষিতে জলের গুণমান মূল্যায়ন করতে ব্যবহার করেন। নির্দেশ অনুসারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আরও ছয় সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীর দূষণ এবং জলের গুণগত মানের অবনতি নিয়ে পরিবেশপ্রেমীদের উদ্বেগের আবহে এই নির্দেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের গঙ্গা নদীর শেষ প্রান্ত। শিল্প দূষণকারী, নদীর ড্রেজিংয়ের অভাব এবং অপরিশোধিত নিষ্কাশন ও পয়ঃনিষ্কাশন জলের প্রবাহের ফলে এখানে গঙ্গার জলের গুণমান মারাত্মকভাবে খারাপ হয়েছে।’
সুভাষ দত্ত দীর্ঘ দিন ধরে গঙ্গাকে আরও পরিষ্কার এবং কম দূষিত করার জন্য আবেদন জানিয়ে কাজ করে আসছেন। তিনি বলেন, রাজ্যের মধ্যে কলকাতা এবং হাওড়া নদীর সবচেয়ে বড় দূষণকারী শহর। তাঁর আরও সংযোজন, ‘রাজ্যের অনেক পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার অকেজো। বন্দরগুলিও সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে, কারণ জাহাজ চলাচলের জন্য জলপথ পরিষ্কার করার জন্য ড্রেজিং করা হয় এবং ড্রেজিংয়ের পরে, কাদা এবং অন্যান্য উপকরণ নদীতে মেশে। গঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন আগুনে আরও ইন্ধন দেয়।’ গত ৬ অক্টোবর ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুন্যালে জমা দেওয়া কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের তথ্য অনুসারে, পশ্চিমবঙ্গের ৩০টি গঙ্গার তীরবর্তী শহরে অবস্থিত ৪২টি পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার রয়েছে। যার মধ্যে ১১টি বোর্ড কর্তৃক অকার্যকর এবং ২৪টি ন্যাশনাল গ্রিনি ট্রাইবুন্যালের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলছে না বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ নভেম্বর।
