ওঙ্কার ডেস্ক: চিকিৎসক হতে গেলে গোটা দেশে নিট পরীক্ষায় বসতে হয়। এই পরীক্ষা অংশগ্রহণের জন্য বয়সের কোনও উর্ধ্বসীমা নেই। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চলতি বছরে নিট ইউজি পরীক্ষায় বসেছিলেন ৭১ বছর বয়সী অশোক বাহার। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সর্বভারতীয় এই পরীক্ষায় প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষণ চেয়ে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে মামলা করেছেন তিনি।
রিপোর্ট অনুসারে, অশোক বাহার যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এমবিবিএস এ ভর্তির ক্ষেত্রে ১% সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। আগামী ২১ জুলাই বিষয়টি আদালতে শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অশোক বাহারের প্রশ্ন, চিকিৎসা শিক্ষায় ভর্তিতে এবং প্রবেশিকা পরীক্ষায় অন্যান্য বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সংরক্ষণ দেওয়া হলে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেন এমন ব্যবস্থা থাকবে। তাঁর সোজা কথা নিট পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে বয়স যদি কোনও বাধা না হয়, তবে চিকিৎসা শিক্ষায় আসন পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রবীণ নাগরিকদের সমান সুযোগ দেওয়া উচিত। অশোক বাহারের আইনজীবী পঙ্কজ ধীর সিং রানা বলেন, প্রবীণ নাগরিকরা যদি আইনত চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে পারেন, তবে তাঁদের ভর্তিতে সাহায্য করার জন্যও একটি নীতিগত কাঠামো থাকা উচিত।
উল্লেখ্য, অশোকের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথমবার চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেছিলেন, কিন্তু সফল হতে পারেননি। ২০২৩ সালে তিনি আবারও চেষ্টা করেন, কিন্তু দূরত্বের কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পরীক্ষায় বসতে পারেননি। তবুও হাল ছাড়েননি ওই বৃদ্ধ। চলতি বছরের মে মাসে তিনি আবার নিট ইউজি পরীক্ষায় অংশ নেন। অশোকের মা সাবিত্রী দেবী চেয়েছিলেন, তাঁর ছেলে চিকিৎসক হোক। ১৯৯০ সালে মায়ের মৃত্যু হলেও সেই অপূর্ণ স্বপ্নটি বয়ে বেড়াচ্ছেন অশোক। ঘটনাচক্রে তাঁর স্ত্রীও পেশায় চিকিৎসক। তিনি অশোকের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন। অশোক বাহার নিজের শিক্ষাজীবনে একাধিক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা ও রসায়নে বিএসসি ডিগ্রি রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া তাঁর ঝুলিতে রয়েছে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা, আইনের ডিগ্রি ও এমবিএ। পেশাগত জীবনে তিনি ‘ইন্ডিয়ান ড্রাগস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড’-এ উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মার্কেটিং হেড ছিলেন। স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে হাইকোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবেও প্র্যাকটিস করছেন। বাহারের মত, শেখার কোনও শেষ নেই।