নিজস্ব সংবাদদাতা : নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভয়াবহ সংঘর্ষের জেরে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত কলকাতায় ফিরবেন না তিনি। দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের তাগিদেই আপাতত উত্তরবঙ্গেই থেকে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
নেপালের বিভিন্ন শহরে গত কয়েক দিন ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আগে থেকেই সতর্ক প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। রাজনৈতিক লাভক্ষতির হিসাব করে দূরে দাঁড়ানো যায় না। আগে মানুষ, তারপর দল, তারপর রাজনীতি।”
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতেই নেপালের ঘটনার অভিঘাতে কবিতা লিখেছেন। তাঁর কথায়, “নেপালে মানুষকে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো মর্মান্তিক দৃশ্য দেখলাম, আর তারপর হাসি-আনন্দে উৎসব করতে দেখলাম। এটা কি কোনো সভ্যতা ? এমন নির্মমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমি এখানে থেকে যাচ্ছি।”
এই মুহূর্তে সীমান্ত সংলগ্ন আট জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক মহল সূত্রে খবর, নেপাল পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন তিনি। কলকাতায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে পরবর্তী সময়ে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মমতার এই অবস্থান কেবল প্রশাসনিক নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতারও বহিঃপ্রকাশ। সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে নেপালের অস্থিরতার প্রভাব বাংলায় পড়তে পারে এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই মুখ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনওরকম উস্কানি বা গুজব পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “মানুষ যখন বিপদে, তখন দায়িত্ব এড়ানো যায় না। শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই আছি।” নেপালের উত্তাল পরিস্থিতির ছায়া এখন স্পষ্টভাবে পৌঁছেছে বাংলার সীমান্তেও। মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান যে সাধারণ মানুষের কাছে এক বড় নিশ্চিন্ততার বার্তা, তা বলাই বাহুল্য।
