ওঙ্কার ডেস্ক: তরুণ ও ছাত্রদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারীরা। সোমবারের পর সরকার বিরোধী এই বিক্ষোভ জারি রয়েছে মঙ্গলবারেও। নেপালের এই গণবিক্ষোভের দিকে নজর এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এই বিক্ষোভের পিছনে কে রয়েছেন তা খুঁজতে গিয়ে উঠে আসছে বছর ছত্রিশের এক তরুণ সুদান গুরুং এর নাম।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ২০১৫ সাল থেকে সুদান ‘হামি নেপাল’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিচালনা করেন। এই সংগঠনের সদস্য মূলত ছাত্র ও তরুণরা। দীর্ঘ দিন ধরে এই সংগঠন নেপালের প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষা প্রসারে কাজ করছে। তবে সুদানের আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি ‘ডিসকো জকি’ বা ‘ডিজে’ হিসাবেও ভীষণ জনপ্রিয়। ২০১৫ সালে নিজের এক সন্তানকে হারান ভূমিকম্পে। তার পরেই সংগঠন গড়ে নেপালে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর কাজ শুরু করেন তিনি। ত্রাণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন সুদান ২০১৫ সালের পর থেকে। ক্রমে নেপালের ছাত্র-যুবদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
উল্লেখ্য, নেপাল সরকার কর্তৃক সমাজ মাধ্যমের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয় কাঠমান্ডুতে। সমাজ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে এই বিক্ষোভ শুরু হলেও এর পিছনে রয়েছে আরও একাধিক কারণ। আন্তর্জাতিক রাজণৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেপালে কর্মসংস্থানের অভাব, জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষুব্ধ সে দেশের মানুষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল নেপালবাসীর মনে। রয়েছে নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ। এই সমস্ত কারণে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই বিদ্রোহে।
