ওঙ্কার ডেস্ক: নেপালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে অবশেষে ঘোষণা করা হল নির্বাচনের তারিখ। শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আগামী ৫ মার্চ দেশজুড়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
নেপালের রাজনীতিতে বিগত কয়েক মাস ধরে অস্থিরতা এবং ক্ষমতার পালাবদলের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতেই দ্রুত নির্বাচনের ঘোষণা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কার্কি বলেন, “দেশকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত আরও শক্ত করতে হলে নির্বাচন অনিবার্য। জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।”
সুশীলা কার্কি নিজেই নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী মুখ। দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি আগে পরিচিত ছিলেন। এবার তাঁকেই অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত একটি বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর স্বামী অতীতে একটি বিমান অপহরণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই কারণে তাঁকে কারাদণ্ডও ভোগ করতে হয়েছিল। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এদিকে নির্বাচনের ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুশীলা কার্কিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রতিবেশী দেশ নেপাল শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে এই নির্বাচন সম্পন্ন করবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্বাচন নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে যে অস্থিরতা ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে, তা প্রশমিত করতে পারলেই জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে। তবে নির্বাচন ঘিরে এখনো বহু প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে নিরাপত্তা, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ এবং সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যাবে কি না, সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।