ওঙ্কার ডেস্ক: জুতো ও চটির ব্যবসা করেই ভালোই চলছিল সংসার। পরে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন জোড়াসাঁকোর আবু জাফর। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে এখন পুলিশের হেফাজতে নিয়ে গিয়েছে। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের একটি তলা লিজ নিয়েছিলেন আবু। প্রায় পাঁচ মাস আগে ওই চুক্তি হয়েছিল। মঙ্গলবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবার নিয়ে উত্তরপ্রদেশে পালানোর ছক ছিল আবুর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হোটেলের মূল মালিক বীরেশ্বর মিত্র। তাঁকে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার চুক্তি ছিল। ১১ মাসের জন্য তৃতীয় তলার ন’টি ঘর লিজ নিয়েছিল আবু। মঙ্গলবার রাতে ওই হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সাত জন বাংলাদেশি নাগরিক। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই আবু জাফর নিখোঁজ ছিলেন। অভিযোগ, পরিবারকে নিয়ে কলকাতা ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
তবে উত্তরপ্রদেশে যাওয়ার আগেই এন্টালিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।
পুলিশের জেরায় আবু জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর নামেই হোটেলের ঘর লিজ নেওয়া হয়েছিল। লিজ সংক্রান্ত নথিও স্ত্রীর কাছেই রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এখনও তাঁর স্ত্রীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি অন্য কোনও রাজ্যে চলে গিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরও আবু হোটেলে যাননি। বুধবার ভোরে পাশের একটি হোটেলের কর্মী তাঁকে ফোন করে আগুনের খবর দেন। তাঁকে দ্রুত মির্জা গালিব স্ট্রিটে যেতে বলা হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পরিবার-সহ পালিয়ে যান আবু। স্থানীয় বাসিন্দারাও বুধবার সকাল থেকে তাঁদের বাড়িতে কাউকে দেখেননি বলে জানিয়েছেন। জোড়াসাঁকো এলাকায় আবুর চটি ও জুতোর ব্যবসা ছিল। সেই ব্যবসা ভালোই চলত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।