ওঙ্কার ডেস্ক: শেষমেশ জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেল মালদার মোথাবাড়ি কাণ্ডের ‘মুলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী একরামুল বাগানির। বেশ কিছুদিন আগে দু জনকে তদন্তের স্বার্থে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল এনআইএ। সেই আবেদনে সাড়া দেয় কলকাতা নগর দায়রা আদালত। ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত দু’জনকেই এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ধৃতদের আদালতে পেশ করে এনআইএ দাবি করে, সুজাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধের নেপথ্যে মূলচক্রী হিসেবে কাজ করেছেন মোফাক্কেরুল। এমনকি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর থেকে শুরু করে নানান উস্কানিতে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন তাঁরা। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পুলিশের ঘেরাটোপ উপেক্ষা করেই মোফাক্কেরুলের ইন্ধনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মোথাবাড়িতে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফের আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, আসল সত্য উন্মোচনের জন্য ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার। মোবাইল ফোন পুলিশের কাছে আছে। সেগুলিও পরীক্ষা করা দরকার বলেও আদালতে জানায় এনআইএ।
ধৃতদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ। তাঁর দাবি, ‘মোফাককেরুল ইসলাম একজন আইনজীবী, তাঁর পালানোর সম্ভাবনা নেই। পেশার জন্য ও তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হোক। যদিও সেই আবেদন খারিজ করে এনআইএ-র বিশেষ আদালত। প্রসঙ্গত, সুজাপুরে জাতীয় সড়ক অবরোধের নেপথ্যে মূলচক্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগী একরামুল বাগানি। এরপর তাঁরা দুজনেই রাজ্য ছেড়ে পালানোর ছক কষেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের ছক বানচাল করে দেয় পুলিশ। তাদের কে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই বর্তমানে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৪৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও ১২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এনআইএ-এর খাতায়।