ওঙ্কার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এক নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও। ‘নো কিংস’ স্লোগানকে সামনে রেখে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতি এবং বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ ঘিরে সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে। এই বিক্ষোভকে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম জনসমাবেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকাতেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে না, বরং বিশ্ব রাজনীতিতেও বিপজ্জনক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের পাশাপাশি অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক চাপের মতো বিষয়ও এই প্রতিবাদের মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্রমশ এমন এক শাসনব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বাড়ছে। ‘নো কিংস’ স্লোগানের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্র কোনও রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়, তাই কোনও নেতার আচরণও যেন রাজাদের মতো না হয়। এই প্রতীকী বার্তার মধ্য দিয়ে তারা গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ মিছিল শান্তিপূর্ণ হলেও কিছু জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে এসেছে। তবুও সামগ্রিকভাবে এই আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ এবং সংগঠিত বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ নাগরিক সব স্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছেন। এই বিক্ষোভ কেবল একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।