ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান আমেরিকার যুদ্ধ পাঁচ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনও সম্ভাব্য কোন শান্তি চুক্তির পথে এগোচ্ছে না দুই পক্ষই। পাকিস্তনের মধ্যস্তায় গত মাসে ইরানকে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু সেই প্রস্তাবও খারিজ করে নিজেদের শর্ত সামনে রেখেছে তেহরান এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এই শর্ত না মানলে কোন রকম শান্তিচুক্তিতে বসবে না ইরান। এদিকে হরমুজ প্রণালী খুলতে মরিয়ে ট্রাম্প নিজের মেজাজ হারিয়ে সমাজ মাধ্যমে ইরানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। ইরানও সেই বার্তাকে ব্যাঙ্গ করে লিখেছে, “আমরা চাবি হারিয়ে ফেলেছি”।
ইরানের জন্য মঙ্গলবার অবধি সময় বেঁধে দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, “অতিসত্বর শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে পুরো দেশ ধ্বংস করে দেব”। সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আমেরিকার প্রস্তাবিত ৪৫ দিনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেশ করেছিল তেহরানের কাছে। সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে নিজেদের ১০টি শর্তের কথা জানিয়েছে তেহরান। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তির কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেননা বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ।
ইরান বরাবর জানিয়ে এসেছে এই যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু সংক্রান্ত আলাপ আলোচনার মাঝেই আচমকায় তাদের উপর হামলা করা হয়। যদি ওয়াশিংটন চায় শান্তি আলোচনায় বস্তে তাহলে তেহরানের দাবী মানতে হবে তাদের। ৪৫ দিনের যুদ্ধ বিরতির জন্য ইরানের শর্ত গুলির মধ্যে গুরত্বপুর্ণ শর্ত হল, তেহরান চায় তারা নিজেদের দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরনে যেন কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকে। উল্লেখ্য, ইরান গোপনে বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধি করে পরমাণু অস্ত্র বানাছে এই যুক্তিতে গত বছরে ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা করেছিল। পাশে দাঁড়িয়েছিল ট্রাম্পের পেন্টাগনও। চলতি বছরেও একই অভিযোগে হামলা চালানো হয় ইরানের উপর। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তদন্তকারী বিভাগ ইরানে কোন রকম পরমাণু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম পায়নি। পাশাপাশি ইজরায়েল ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পরও সেখান থেকে কোন তেজস্ক্রিয় বিকিরণ নির্গত হয়নি।
পরমাণু স্বশক্তিকরনের পাশাপাশি ইরান এই যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান দাবী করেছে। নিজেদের পাশাপাশি প্যালেস্তিন এবং লেবাননের যুদ্ধ থামানোর দাবী তোলা হয়েছে তেহরানের পক্ষ থেকে। এবং ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সব দেশে ভবিষ্যতে আর কোন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি না হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে। হরমুজ প্রয়ানলীর উপর কর আদায়ের সম্পুর্ন অধিকার ইরানের কাছে থাকবে বলে শর্ত রেখেছে সেদেশ। আমেরিকার লাগানো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে মার্কিন মুলুককে তা জানিয়ে দিয়েছে, এবং যুদ্ধের কারণে ইরনাএর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ওয়াশিংটনকে। এবার এই শর্ত ট্রাম্প মানবে কিনা তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যায় আর বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তির অনিশ্চয়তা।