ওঙ্কার ডেস্ক : নির্বাচন-মুখী পশ্চিমবঙ্গে বিবেচনাধীন ভোটার তালিকার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলো সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আদালত জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য ভাবে আপত্তির নিষ্পত্তি ইতোমধ্যেই করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর নিষ্পত্তি ৭ এপ্রিলের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নথিভুক্ত করেছে। যেখানে বলা হয়েছে যে মোট ৬০ লক্ষেরও বেশি বিচারাধীন মামলার মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৭ লক্ষেরও বেশি আপত্তির নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চটি মন্তব্য করে, “আমরা প্রাপ্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান নিয়ে বেশ খুশি এবং আশাবাদী।” তারা আরও জানায় যে, প্রতিদিন প্রায় ১.৭৫ থেকে ২ লক্ষ আপত্তির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ৭ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বোচ্চ আদালত আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছে, এইসব ট্রাইব্যুনালের প্রধান হিসেবে থাকবেন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিরা। জানা গেছে, ভারতের নির্বাচন কমিশন এই ধরনের ১৯টি ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যে জারি করেছে। ট্রাইব্যুনালের কাজ চলবে কলকাতায়। প্রাথমিক ভাবে ৮ সপ্তাহের জন্য এই ট্রাইব্যুনালের পরিকাঠামো গড়া হয়েছ। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানানো হয়েছে যে, ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই দায়ের করা আপিলগুলো খতিয়ে দেখার জন্য ভোটারদের তাদের পরিচিতিমূলক ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এই ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি উঠলে, শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয় যে এটি কেবল একটি পরিচিতিমূলক কার্যক্রম এবং “তুচ্ছ অভিযোগ” সম্পর্কে সতর্ক করে। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার কারণ দর্শানোর অভাব সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানানো হয় যে এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সফটওয়্যারটিতে কারণ লিপিবদ্ধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কলাম রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে আপিলের বিচার করার সময় আপিল ট্রাইব্যুনালগুলোর এই ধরনের নথিপত্রে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকতে হবে। প্রধান বিচারপতি কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আরও স্পষ্ট করে যে, আপিলকারী সংস্থা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজস্ব কার্যপ্রণালী তৈরি করতে পারলেও, নতুন নথির সত্যতা যাচাই না করে তা গ্রহণ করা উচিত নয়। শুনানির সময়, কপিল সিবাল, শ্যাম দিভান এবং কল্যাণ ব্যানার্জীসহ সিনিয়র আইনজীবীরা বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটার তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্তির জন্য বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ আবেদন দাখিল করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই মর্মে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাজার হাজার এই ধরনের ফর্ম জমা পড়ছে, যা চলতি এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। তবে, সর্বোচ্চ আদালত এই ধরনের আশঙ্কাকে “অকালপক্ক ও কাল্পনিক” বলে জানিয়েছে। পর্যবেক্ষণ করেছে যে, প্রয়োজনে এই ধরনের বিষয় আপিল ট্রাইব্যুনালের সামনে উত্থাপন করা যেতে পারে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছে, “আমাদের সামনে লিখিতভাবে কিছুই নেই। আপনারা প্রতিকারহীন নন।” কমিশনের পক্ষে উপস্থিত প্রবীণ আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু জানান যে, “বিধিবদ্ধ কাঠামো মনোনয়নের শেষ তারিখ পর্যন্ত যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেয়।” তিনি আরও বলেন, “কারও যদি অধিকার থাকে, তবে কেউ তা ব্যাহত করতে পারে না।” এদিন নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় জড়িত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ট্রাইব্যুনাল সদস্য এবং কর্মীদের সম্মানী ও লজিস্টিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
আগামী ৭ এপ্রিল বিকাল ৪টায় পরবর্তী শুনানির জন্য বিষয়টি ধার্য করে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তারা আপিল ট্রাইব্যুনালগুলোর কাজ এবং এসআইআর-এর কাজের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করবে।