ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে এ বার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে লেখা একটি দীর্ঘ চিঠিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন।
চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেছেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কোনও নতুন বা হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে এবং এর উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃত ভাবে এই প্রক্রিয়াকে ‘অপরিকল্পিত’ ও ‘বিশৃঙ্খল’ বলে তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইছেন। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারের নাম থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে সেই অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা প্রশিক্ষিতভাবেই কাজ করছেন।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি ও মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতা আসলে রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষার কৌশল, যার মাধ্যমে অনিয়ম আড়াল করতে চাওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাতে রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সংবিধান অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করা হয়।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছিলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করে চালানো হচ্ছে এবং এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর আরও বেড়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে এই দ্বন্দ্ব শুধু প্রশাসনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক গুরুত্বও পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এই চিঠি ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ করে, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
