ওঙ্কার ডেস্ক: মেঘভাঙ্গা বৃষ্টিতে জেরবার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। প্রবল বৃষ্টির কারনে সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছে দেশের উত্তর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ। সুত্রের খবর, বৃষ্টি এবং ধ্বসের জেরে এখনও পর্যন্ত ২৫০ জন মারা গেছেন। সংখ্যা আরও বারতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। প্রবল বৃষ্টির জেরে উদ্ধার অভিযানে নেমে বিপর্যয়ের শিকার হয় সেনার একটি হেলিকপ্টার। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তা ভেঙে পড়তেই পাঁচ সেনা সদস্য ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্যার পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জল ঢুকে যাওয়ায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। বন্ধ মোবাইল পরিষেবাও। এর ফলে দুর্গত এলাকায় আটকে থাকা বহু মানুষের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পাহাড়ি দুর্গম গ্রামগুলিতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে না পারায় বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। প্রশাসনের মতে, বহু মানুষ জলবন্দি অবস্থায় অপেক্ষা করছেন, যাদের কোনও খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মেঘভাঙা বৃষ্টি এখানকার জন্য নতুন নয়। প্রতি বছর এক বা দু’বার এমন দুর্যোগ নেমে আসে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি যে ভয়াবহ, তা স্থানীয়রা আগেও খুব কমই দেখেছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া বর্ষায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শিশু রয়েছে ১৫৭ জন। আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতদের মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়জন ও গিলগিট বালতিস্তানের পাঁচজনও রয়েছেন।
শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সেনাকর্তাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেন। তিনি দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও বেশি সেনা নামানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক ভয়ঙ্কর মানবিক সঙ্কটের রূপ নিয়েছে।