ওঙ্কার ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভ ক্রমশ পাকিস্তান সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন শুধু স্থানীয় অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যে পাকিস্তান প্রশাসনের সমালোচনা করার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে পিওকের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানায় ইসলামাবাদের অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পরিস্থিতি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে। অতীতে কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতে বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পিওকে সফরের ব্যবস্থা করেছিল পাকিস্তান। ২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমারের চার দিনের পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীর সফর সেই কৌশলেরই অংশ ছিল বলে মনে করা হয়। সেই সফরে তিনি কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আলোচনা হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলেন। পাশাপাশি কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের পক্ষেও মত প্রকাশ করেছিলেন। তবে পরবর্তীকালে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে জমা পড়া আর্থিক নথি থেকে জানা যায়, ওই সফরের বিমানযাত্রা, আবাসন ও আতিথেয়তার সমস্ত খরচ বহন করেছিল পাকিস্তান সরকার। সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সফরটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে চলমান আন্দোলনের প্রভাব কমাতে পাকিস্তান আবারও আন্তর্জাতিক স্তরে একই ধরনের প্রচারের পথ নিতে পারে। বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা মতামত প্রভাবকদের মাধ্যমে কাশ্মীর ইস্যু সামনে আনার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার চেষ্টা হতে পারে। কিন্তু এবার সেই প্রচেষ্টা আগের মতো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জেএএসি-র আন্দোলন এখনও থামার কোনও লক্ষণ দেখাচ্ছে না। বরং আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ সামনে আসছে। পিওকের বাসিন্দারা বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়নের সঙ্গে নিজেদের অবস্থার তুলনাও করছেন।
২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরে উন্নয়ন, পর্যটন এবং অবকাঠামো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে ভারতীয় প্রশাসনের দাবি। পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপও আগের তুলনায় কমেছে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও দুই অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্যের ছবি স্পষ্ট বলে দাবি করা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে যেখানে ১০টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে, সেখানে পিওকে-তে রয়েছে মাত্র তিনটি। সরকারি হাসপাতালের সংখ্যাতেও বড় ফারাক রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও পিওকে-তে রয়েছে মাত্র ছয়টি। পরিবহণ অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও জম্মু ও কাশ্মীরে চারটি বিমানবন্দর ও রেল সংযোগ থাকলেও পিওকে-র সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে অনেক সীমিত। অন্যদিকে পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৩,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৪০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ, উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ পাকিস্তানের জাতীয় গ্রিডে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পিওকের বাসিন্দাদের ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের মুখে পড়তে হয়। এমনকি বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনেও নিয়মিত পরিষেবা পান না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।