নিজস্ব সংবাদদাতা : ২৬শের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে সংগঠনকে আগাগোড়া ঢেলে তৈরি করতে তৎপর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। অল্প সময়ের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ্ রাজ্যে এসে দলকে চাঙা করার নানান দাওয়াই দিয়ে গেছেন। এবার বুথ সশক্তিকরণ অভিযানে সুনীল বনসলের তত্ত্বাবধানে সরাসরি মাঠে নামছেন মঙ্গল পান্ডে। রাজ্য সহ কেন্দ্রের প্রতিনিধিরাও খুঁটিয়ে দেখছেন বুথের পরিস্থতি এবং শক্তিকেন্দ্র।
৭ মে সাংগাঠনিক কাজ এবং বিভিন্ন কমিটির গতিবিধি নিয়ে আলোচনা করতে একটি সভা আয়োজিত হয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের নেতৃতে। সেই সভায় শুভেন্দু অধিকারি জেলা স্তর এবং তার নিচের স্তরের কার্যকলাপ নিয়ে অসস্তি প্রকাশ করেছেন। জেলার ও তার নিচের স্তরের দেওয়া কমিটির বাস্তব রুপ সম্পর্কে আশাবাদী নন তিনি এমনটাই জানা যাচ্ছে। অবশ্য এহেন অবস্থার শিকার নতুন নয় রাজ্যের বিজেপি দল। খাতায় কলমে সংগঠনের চেহারা আর বাস্তবে সঙ্গে তার গন্ডগোল থাকলে কি পরিস্থিতি হতে পারে তা আগের নির্বাচনগুলিতেই দেখেছে বিজেপি। তাই এইবার আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক। তড়িঘড়ি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন তিনি। সেই সময় গোঁজামিল তত্ত্ব সামনে আসে বনসলের। এই ঝামেলা নিয়ে নির্বাচনের দিকে পা বাড়াতে চান না কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের একাংশ।
২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় রণকৌশল সাজানোর ভার ছিল সুনীল বনসল ও মঙ্গল পান্ডের উপর। সেই নির্বাচনের ফল ও বিজেপির প্রত্ত্যাশিত ফলের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখা গেছে। এতেই পশ্চিমবঙ্গের খাতায় কলমের সাংগাঠিক কমিটির উপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে চাইছেন না পর্যবেক্ষক বনসল এবং পান্ডে। ফলস্বরুপ জুন মাসের প্রথম থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে এই বিশেষ কমিটি।
৪ জুন থেকেই জোরকদমে কাজ শুরু হবার কথা জানা গিয়েছে। জেলা স্তরের নেতাদের নিয়ে মন্ডল স্তরের কাজ পর্যবেক্ষন করবেন ভারপ্রাপ্ত বিজেপি কর্মীরা। কমিটির সাংগাঠিক চেহারার সঙ্গে বাস্তবে কতটা মিল সে নিয়েও খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর। ৭ জুন থেকে সপ্তাহ খানেক ধরে সমীক্ষা হবে শক্তিস্তরে। বিজেপির কর্মী সংখ্যার উপর জোর দিচ্ছে এই সমীক্ষা। তার উপর ভিত্তি করেই নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।
মোট তিনটি স্তরে এই গোঁজামিল সামলানোর কথা ভাবছেন তাঁরা। এর প্রথম ধাপে জেলা, মণ্ডল ও শক্তিকেন্দ্রের আসল রূপ জেনে তা সরাসরি দিল্লিতে পাঠানোর কথা বলা আছে। সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে দ্বিতীয় ধাপে। এই ধাপে দলকে আরও মজবুত করা হবে বলে দাবি। সর্বশেষ ধাপে দূর্বল এলাকাগুলিতে শক্তি বাড়ানোর অনান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বনসল, পান্ডে ছাড়াও এই সংগঠনে রয়েছেন বিজেপির তাবড় তাবড় নেতাবৃন্দ। সেই তালিকায় আছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, অগ্নিমিত্রা পাল, অমিতাভ চক্রবর্তী সহ আরও অনেকে। সব মিলিয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় আশাবাদী কেন্দ্রের শাসক দল।
