ওঙ্কার ডেস্ক: রাজস্থানের চুরু জেলার ভানোদা গ্রামের কাছে রুটিন প্রশিক্ষণ চলাকালীন ভেঙে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বায়ুসেনা পাইলট স্কোয়াড্রন লিডার লোকেন্দ্র সিং সিন্ধু (৪৪) এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ঋষি রাজ সিং (২৩)।
সুত্রের খবর, লোকেন্দ্র সিং সিন্ধুর বাড়ি হরিয়ানার রোহতক জেলায়, আর ঋষি রাজ সিংয়ের বাড়ি রাজস্থানের পালি জেলায় বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুরে রুটিন প্রশিক্ষণে ছিল টুইন-সিটার জাগুয়ার ট্রেনার বিমানটি। উড়ানের মাঝেই আচমকা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পাইলটরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তীব্র আঘাতে ঘটনাস্থলেই দুই পাইলটের মৃত্যু হয়। বায়ুসেনা জানিয়েছে, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই সাহসী পাইলটকে হারানো অত্যন্ত বেদনার। তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। দুর্ঘটনায় কোনও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।” ইতিমধ্যেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি ‘কোর্ট অফ ইনকোয়্যারি’ গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে এই নিয়ে তৃতীয়বার ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার জাগুয়ার যুদ্ধবিমান। এর আগে ৭ মার্চ হরিয়ানার পঞ্চকুলা ও ২ এপ্রিল গুজরাতের জামনগরের কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে এই একই ধরনের যুদ্ধবিমান। এক সময়ে বায়ুসেনার নির্ভরযোগ্য যুদ্ধবিমান হিসাবে পরিচিত জাগুয়ারগুলি বর্তমানে আধুনিকীকরণ করা হলেও বহু বিমানই বয়সের কারণে কার্যত ‘ভিনটেজ’ স্তরের হয়ে উঠেছে। এখনও প্রায় ১২০ টি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান সক্রিয়ভাবে বায়ুসেনার কাছে রয়েছে। বারবার জাগুয়ার দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, পুরনো যুদ্ধবিমানগুলির উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো আধুনিকীকরণ কতটা সঠিকভাবে হচ্ছে সে নিয়েও প্রশ্ন থেকে জাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ব্যবহারে যন্ত্রাংশের পরিশ্রান্তি ও প্রযুক্তিগত ঘাটতি এই ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।
দুই বায়ুসেনা অফিসারের অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সহকর্মী, পরিবার ও গোটা দেশ। শোকবার্তায় বায়ুসেনা জানিয়েছে, “এই সাহসী অফিসারদের আত্মবলিদান দেশ কোনও দিন ভুলবে না। পরিবারগুলির পাশে সর্বদা থাকবে ভারতীয় বায়ুসেনা।” এই ঘটনার পর, দ্রুত তদন্ত শেষ করে যুদ্ধবিমানগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা আরও জোরদার করার বার্তাই উঠে আসছে প্রতিরক্ষা মহল থেকে।
