অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গিয়ে উল্টে বিপদে পড়ছেন রোগীরা। কারণ, ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম। গত ৬ বছরে এই কারণে রোগীর গুরুতর ক্ষতির ঘটনা প্রায় তিন গুণ বেড়ে গিয়েছে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ইন্ডিয়ান ফার্মাকোপিয়া কমিশনের (আইপিসি) রিপোর্টে।
কী বলছে রিপোর্ট?
২০২০ সালে চিকিৎসা সরঞ্জামের ত্রুটিতে গুরুতর পরিণতির সংখ্যা ছিল ৮০৮। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২১৭৬। ছ’বছরে মোট ৯৩৭৩টি এমন গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। তথ্য জানার অধিকার আইনে এই তথ্য চেয়েছিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন আইপিসি-কে পরিসংখ্যান প্রকাশের নির্দেশ দেয়। তারপরই সামনে আসে এই রিপোর্ট।
কাকে বলা হচ্ছে ‘গুরুতর’?
আইপিসি-র সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনও কারণে রোগীর জীবনের ঝুঁকি বাড়লে, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হলে কিংবা হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হলে, সেই পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর’ বলা হচ্ছে।
দেশজুড়ে ৭৭৫টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে অস্ত্রোপচারের বিশেষ দস্তানা, ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ, ইউরিন ব্যাগের মতো জিনিস। ২০২৩-২৪ সালের রিপোর্টে একটি কন্ডোমকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
অভিযোগ, এতদিন এই তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হত। কমিশনের যুক্তি ছিল, কোন সংস্থা বা কোন ব্র্যান্ডের সরঞ্জামে ত্রুটি হয়েছে তা জানালে ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে। বাণিজ্যিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন হবে। তবে কমিশনের এই যুক্তি মানেনি তথ্য কমিশন। তথ্য প্রকাশ করতে বলা হয়।
প্রকাশিত রিপোর্ট নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। অভিযোগ, এই রিপোর্ট অসম্পূর্ণ। সিরিঞ্জ বা গ্লাভসের মতো উপাদানের কথা বলা হলেও ভেন্টিলেটর, হার্ট স্টেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামে ত্রুটির কথা সেভাবে উল্লেখই করা হয়নি।