শুক্লা মাইতি
“আইন যেখানে অন্ধ, ন্যায় সেখানে নীরব!” তা যেন মর্মে অনুভব করছেন তিলোত্তমার বাবা-মা। এখানেই তাঁকে নিরুপায় করে তুলছে। মেয়ের মৃত্যুর দেড় বছর হল প্রায়। তবু পাননি ন্যায়বিচার। তাই মরিয়া বাবা-মার মুহে উচ্চারিত হচ্ছে চরম উষ্ণা। বলছেন, মেয়ের বিচার ছিনিয়ে নিতে প্রয়োজনে আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন। এমন হুঁশিয়ারিতে মোড় নিতে চলেছে তিলোত্তমাকে ঘিরে আরজিকর আন্দোলন।
পেরিয়েছে মাস। ঘুরেছে বছর। শক্ত হয়েছে চোয়াল। দৃঢ় হয়েছে তিলোত্তমার বাবা-মার ন্যায়ের সংকল্প । আজও কাঁপা কাঁপা কণ্ঠেই সন্তান হারা মা জোর গলায় বলেন, “আমাদের আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, মেয়ের বিচার ছিনিয়ে নিতে প্রয়োজনে আইন নিজের হাতে তুলে নেব”। বারাসাতের একটা অনুষ্ঠানে এসে এমনটাই বলেছেন তিলোত্তমার মা। তিনি আরও বলেন ডিএনএ রিপর্টে স্পষ্ট উল্লেখ আছে একজন মেয়ে সহ ছয়জন ছেলের ডিএনএ পাওয়া গেছে মেয়ের শরীরে। কিন্তু তারা আজও অধরা। আর কবে তদন্ত শেষ করবে CBI ? কবে তার ন্যায় বিচার হবে ?
প্রায় দেড় বছর পরেও বিচারহীন তিলোত্তমা, এ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া বাস্তবিকই “বিচারের বাণী কাঁদে নিভৃতে”। একমাত্র সন্তান হারিয়ে এখন ওই পরিবারের একটাই দাবি, তিলোত্তমার মৃত্যুতে সঞ্জয়ের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের যেন গ্রেফতার করা হয়। তিলোত্তমার মায়ের দাবি, “তাদেরকে সামনে আনতেই হবে”। ক্লান্ত তিলোত্তমার বাবার অভিযোগ “সিবিআই তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে বলেছেন তিনি নিজে কোনো তদন্ত করেননি। তাহলে তিনি কি করলেন ?”
তিলোত্তমার বাবা-মা এখনও মনে করেন সন্দীপ ঘোষ এই খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। আইনেই সব দরজায় কড়া নেড়েও পাননি মেয়ের নির্মম হত্যার ন্যায় বিচার, তবু হতাশ নন বরং আরও উদ্যমী তাঁরা। বললেন, “অনেকদিন হয়ে গেল, হাইকোর্টে বিষয়টি ঝুলেই রয়েছে। আমরা আদালতে জানতে চাইবো, আর কত দিন ? মেয়ের ন্যায়বিচার চেয়ে লড়াই করতে করতে মরিয়া এই বাবা-মা্র এখন একটাই লক্ষ্য মেয়ের উপর নির্যাতনের ন্যায়বিচার তাঁরা নিয়েই ছাড়বেন।
