ওঙ্কার ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে শিয়ালদহ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, শুধু দোষীকে শাস্তি দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। এই মামলায় তদন্তে গাফিলতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আর সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারকে।
মামলায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যেই আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। কিন্তু রায় ঘোষণার দিনেই বিচারক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সাজা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মামলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিককে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বাদী পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ তুলেছিলেন যে, তদন্ত চলাকালীন অন্তত চারজন পুলিশ অফিসার দায়িত্বে গাফিলতি করেছেন এবং মৃতার পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করেছেন।
এই চারজন পুলিশকর্মীর মধ্যে রয়েছেন তদন্তকারী অফিসার সীমা পাহুজা-সহ আরও কয়েকজন। অভিযোগ, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে একাধিক অসঙ্গতি থেকে যায়, যা নিয়ে পরিবার আদালতে প্রশ্ন তোলে। আদালত সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে লালবাজারকে নির্দেশ দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট অফিসারদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুধু তাই নয়, আদালত সিবিআইকেও নির্দেশ দিয়েছে যে, আরজি কর হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও অন্যান্য স্টাফদের ভূমিকা খুঁটিয়ে দেখা হোক। শুধু অভিযুক্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মীদের আচরণও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
আদালত লালবাজারকে নির্দেশ দিয়েছে, চারজন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে সিবিআইকেও বলা হয়েছে, হাসপাতালের দিকটি নিয়ে আলাদা অনুসন্ধান চালাতে।আদালতের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৪ নভেম্বর। সেদিন বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে।
