ওঙ্কার ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ক্রমেই হতাশা বাড়ছে নির্যাতিতার পরিবারে। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি থেকে ফিরে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতেই ক্ষোভ উগরে দিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা। সরাসরি সিবিআইকে নিশানা করে তাঁদের অভিযোগ “সিবিআইয়ের ডিরেক্টর নিজে বলছেন এই মামলা ছেড়ে দেবেন”।
নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, সিবিআইয়ের কাছে ঘটনার কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই। কে ধর্ষণ করল, কোথায় করল, কেন করল কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি ডিরেক্টর। আদালতের নির্দেশে তদন্ত করছে যে সংস্থা, তার এমন অবস্থান মেনে নেওয়া যায় না বলেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। আরও জানান, সিবিআই ডিরেক্টর স্বীকার করেছেন যে মামলা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন, এবং পরিবারকে বলেছেন সেই কথা আদালতে গিয়ে বলতে। তাঁর কটাক্ষ “১৪০ কোটির দেশের মানুষ যাঁদের উপর ভরসা করেন, সেই সংস্থা যে কতটা ‘বোগাস’, তা নিজের চোখে দেখলাম।”
দিল্লিতে গিয়ে নির্যাতিতার বাবা-মা সিবিআই ডিরেক্টরের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড তুলে দেন, তাতে লেখা ছিল “মেরুদণ্ড দেখান, না হয় পদত্যাগ করুন।” জবাবে ডিরেক্টর বলেন, তাঁদের মেরুদণ্ড আছে। সঙ্গে সঙ্গে নির্যাতিতার মা পাল্টা বলেন” না, আপনাদের মেরুদণ্ড নেই। থাকলে এমন অজুহাত দেখাতেন না”।
এদিন নির্যাতিতার মা জানান, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তাঁকে ‘নারীশক্তি অ্যাওয়ার্ড’ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। তাঁর সাফ কথা মেয়ের ন্যায্য বিচার না পাওয়া পর্যন্ত কোনও পুরস্কার নেবেন না।
পরিবারের পরিকল্পনা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গেও দেখা করার, তবে সময়ের অভাবে তা হয়নি। নির্যাতিতার বাবা জানান, অমিত শাহ তাঁদের সোমবার পর্যন্ত থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু শনিবার ‘নবান্ন অভিযান’-এর কারণে তা সম্ভব হয়নি। সুযোগ পেলে পরে অবশ্যই দেখা করবেন বলেও জানান তিনি।
নিজের মেয়ের উপর হয়ে যাওয়া অমানবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছেন আরজিকরের নির্যাতিতার বাবা মা। গোটা ঘটনার পিছনে মুল উদ্দেশ্য কি ছিল, কে বা কারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কেন আসল দোষীদের লুকানো হয়েছে এসবের প্রশ্ন নিয়ে আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। ঠিক এক বছর আগে ৯ আগস্ট কলকাতার বুকে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস অপরাধের ন্যায় বিচারের আশায় দেশের বিচার ব্যাবস্থার দিকে তাকিয়ে বসে আছে বৃদ্ধ বাবা মা।
