স্পোর্টস ডেস্ক : পর্তুগালের হয়ে আর খেলবেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কোচের সঙ্গে বিবাদ থেকে থেকে দল থেকে বাদ পড়া নানা বিষয়ে বিপর্যস্ত হয়ে গেছিলেন রোনাল্ডো। অবশেষে রোনাল্ডো দেশের জার্সিকে বিদায় জানালেন।বিশ্বকাপের পরই রোনাল্ডো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই বছরটাই ফুটবলে তাঁর শেষ বছর। বর্তমানে আল নাসরের হয়ে ফেললেও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন রোনাল্ডো। জাতীয় দলের হয়ে সবথেকে বেশি গোল করা ফুটবলারের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন রোনাল্ডো। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৪টি ম্যাচ খেলে মোট ১৪৬টি গোল করেছেন।
ঐতিহাসিক সাত নম্বর জার্সিও এবার নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চলেছেন তিনি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যে তাঁর কাছে মোটেও সহজ ছিল না, তা স্বীকার করেছেন পর্তুগিজ তারকা। ২০০৩ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল রোনাল্ডোর। দীর্ঘ ২৩ বছরের যাত্রা শেষে তিনি বিদায় নিচ্ছেন পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বাধিক গোল করা ফুটবলার হিসেবে। তবে এমন বর্ণময় কেরিয়ারের শেষ অধ্যায়ের পরিণতি কিছুটা বিষাদের সঙ্গেই শেষ হল।
বিদায়ী বার্তায় জাতীয় দলের হয়ে কাটানো সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন রোনাল্ডো।
বিদায়ী বার্তায় রোনাল্ডো বলেন, ‘আজ জাতীয় দলের হয়ে মাঠে আমার যাত্রা শেষ হল। মাথা উঁচু করেই বিদায় নিচ্ছি। যে পথ পেরিয়ে এসেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। পর্তুগালের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, এই বিশ্বাস নিয়েই বিদায় নিচ্ছি।সাত নম্বর জার্সি আমার কাছে থেকে যাবে। কিন্তু এই জার্সি পরার গর্ব চিরকাল আমারই থাকবে। পর্তুগাল সবসময় আমার হৃদয়ে থাকবে, চিরকাল।’
২০০৩ সালের অগস্টে কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে পর্তুগালের হয়ে অভিষেক হয়েছিল রোনাল্ডোর। পরের বছরই মাত্র ১৯ বছর বয়সেই পর্তুগালকে ইউরো কাপের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনালে গ্রিসের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় পর্তুগিজদের। এরপরও একাধিকবার বড় প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের খুব কাছে পৌঁছেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে রোনাল্ডোকে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০১২ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল পর্তুগাল।
২০১৬ সালের ইউরো কাপের সময় রোনাল্ডো ছিলেন দলের অধিনায়ক এবং পর্তুগিজ ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেই ফাইনালে অবশ্য প্রথমার্ধেই হাঁটুর চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল রোনাল্ডোকে।তবে মাঠের বাইরে থেকেও সতীর্থদের উৎসাহ জুগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে এডারের গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে প্রথমবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় পর্তুগাল। জাতীয় দলের হয়ে রোনাল্ডোর কেরিয়ারে সেটাই ছিল অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
২০১৯ সালে প্রথমবার আয়োজিত উয়েফা নেশনস লিগ জিতেও আন্তর্জাতিক ট্রফির সংখ্যা বাড়িয়েছিল পর্তুগাল। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে দুরন্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন রোনাল্ডো। ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁর দল।
এরপর ছ’বছর পর আবারও নেশনস লিগ জেতে পর্তুগাল। স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে গোল করেছিলেন রোনাল্ডো। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য নেশনস লিগ জেতে পর্তুগিজরা।জাতীয় দলের হয়ে ২৩৪টি ম্যাচে ১৪৬টি গোল করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একাধিক রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন রোনাল্ডো। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ছ’টি আলাদা সংস্করণে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার নজিরও গড়েছেন তিনি।এক মাস আগেই লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিকে বিদায় জানান এবারে রোনাল্ডো পর্তুগালের জার্সিকে মেসির বিশ্বকাপ আছে ক্যাবিনেটে রোনাল্ডোর নেই। তবে কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্ব ফুটবলের দুই তারার বিদায় সত্যিই শুন্যতা তৈরী করলো।